ঝিনাইদহের ‘নিখোঁজ’ আরেক কলেজছাত্রের লাশ চুয়াডাঙ্গায় উদ্ধার

রেডিও ঝিনুক : ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থেকে ‘নিখোঁজের’ ১০ দিন পর কলেজছাত্র সোহানুর রহমানের (১৬) গুলিবিদ্ধ লাশ পাওয়া গেল চুয়াডাঙ্গায়। এ ঘটনার মাত্র সাত দিন আগে ঝিনাইদহের আরও দুই ‘নিখোঁজ’ কলেজছাত্রের গুলিবিদ্ধ লাশ যশোর থেকে উদ্ধার করা হয়।
নিখোঁজ তৃতীয় কলেজছাত্র সোহানুরের লাশ গতকাল বুধবার চুয়াডাঙ্গার খাড়াগোদা গ্রামের মাঠ থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। তাকে ১০ এপ্রিল কালীগঞ্জ-কোটচাঁদপুর সড়কের ঈশ্বরবা জামতলা নামক স্থান থেকে পুলিশ সদস্য পরিচয়ে চার ব্যক্তি তুলে নিয়ে গিয়েছিলেন। এরপর থেকে তার খোঁজ মিলছিল না। সোহানুর ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার ঈশ্বরবা গ্রামের মহসিন আলীর ছেলে ও কালীগঞ্জ শহরের শহীদ নূর আলী কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার তিতুদহ ইউনিয়নের খাড়াগোদা গ্রামের মাঠে গতকাল সকাল সোয়া আটটায় একটি গুলিবিদ্ধ লাশ পড়ে থাকতে দেখেন কৃষকেরা। ধানখেতের পাশে রক্তাক্ত অবস্থায় লাশটি পড়ে ছিল। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। লাশের পরনে ছিল কালো হাফ হাতা গেঞ্জি ও চেক লুঙ্গি। পায়ে চটি। মাথায় গুলির চিহ্নসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছিল নির্যাতনের দাগ।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত তিতুদহ পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুর রশিদ বলেন, লাশের ধরন দেখে মনে হচ্ছে, ডান চোখে গুলি করা হয়েছে এবং তা মাথার পেছন দিক দিয়ে বেরিয়ে গেছে। নিহত ব্যক্তির চাচাতো ভাই জাহাঙ্গীর আলম বলেন, লাশটি সোহানুরের বলে শনাক্ত করেছেন তাঁরা।
সোহানুরের বাবা মহসিন আলী বলেন, সোহানুরের মা পারভীনা খাতুন ডাক্তার দেখিয়ে ১০ এপ্রিল ঢাকা থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। ওই দিন বিকেল পাঁচটার দিকে সোহানুর গ্রামের পাশে বাসস্ট্যান্ডে মায়ের জন্য অপেক্ষা করছিল। সোহানুরের মা পৌঁছানোর ২০ মিনিট আগে এক ইজিবাইকে চার ব্যক্তি এসে সোহানুরকে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় বাসস্ট্যান্ডে উপস্থিত অন্যরা বাধা দিলে তাঁরা নিজেদের পুলিশের লোক পরিচয় দিয়ে অস্ত্র দেখিয়ে উঠিয়ে নিয়ে যান।
মহসিন আলী আরও বলেন, ওই ঘটনায় তিনি কালীগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন। এ ছাড়া প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে ছুটে বেড়িয়েছেন। সংবাদ সম্মেলন করে ছেলেকে ফেরত পেতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন। কিন্তু জীবিত পেলেন না।
কান্নায় ভেঙে পড়ে সোহানুরের বাবা বলেন, তাঁর ছেলে কোনো রাজনীতি করে না। সে খারাপ ছেলে না। এইচএসসি প্রথম বর্ষে পড়ালেখা করছিল। তারপরও কেন তাকে হত্যা করা হলো, তা তিনি বুঝতে পারছেন না।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন বলেন, সোহানুরের লাশ ময়নাতদন্ত শেষে বিকেল সাড়ে চারটায় নিজ গ্রাম ঈশ্বরবায় আনা হয়। সন্ধ্যায় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
পরিবার রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা না থাকার কথা বললেও জামায়াতে ইসলামী এক বিবৃতিতে সোহানুরকে ছাত্রশিবিরের কর্মী হিসেবে দাবি করেছে। বিবৃতিতে ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত ও হত্যায় জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তি দাবি করা হয়।
গত এক মাসে কালীগঞ্জ পৌর এলাকা থেকে এ নিয়ে তিন কলেজছাত্রকে পুলিশ পরিচয় দিয়ে দিনের বেলায় উঠিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে ইসলামী ছাত্রশিবিরের কালীগঞ্জ পৌর শাখার সভাপতি আবুজার গিফারী ও সংগঠনটির কর্মী শামীম হোসেনের গুলিবিদ্ধ লাশ ১৩ এপ্রিল যশোরে একটি শ্মশান থেকে পাওয়া যায়।
গিফারী যশোর সরকারি মাইকেল মধুসূদন (এমএম) কলেজের বাংলা বিভাগের তৃতীয় বর্ষ ও শামীম ঝিনাইদহ সরকারি কে সি কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন।

নতুন মন্তব্য যুক্ত করুন

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
ক্যাপচা
This question is for testing whether or not you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.
ক্যাপচা
ছবিতে দেখানো অক্ষরগুলো লিখুন